ব্যথা সবসময় শুধু আঘাতের কারণে হয় না। দুর্বল পেশি, শক্ত জয়েন্ট, ভুল শারীরিক ভঙ্গি, দীর্ঘসময় একই অবস্থায় থাকা বা শরীরের কোনো অংশে অতিরিক্ত চাপ পড়ার কারণেও ব্যথা হতে পারে। ব্যথার কারণে মানুষ নড়াচড়া কমিয়ে দিলে পেশি আরও দুর্বল হতে পারে এবং জয়েন্টের স্বাভাবিক গতিও কমে যেতে পারে।
ফিজিওথেরাপিতে প্রথমে ব্যথার সম্ভাব্য কারণ ও শরীরের কার্যগত সীমাবদ্ধতা পরীক্ষা করা হয়। এরপর রোগীর জন্য নিরাপদ ও ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া একটি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। NHS-এর মতে, আঘাত, অসুস্থতা বা অক্ষমতার কারণে সৃষ্ট ব্যথা কমানো ও নড়াচড়া উন্নত করতে ফিজিওথেরাপি ব্যবহার করা হয়।
ফিজিওথেরাপি যেভাবে সাহায্য করতে পারে—
- পেশি শক্তিশালী করে: দুর্বল পেশি জয়েন্টকে যথেষ্ট সমর্থন দিতে পারে না। নির্দিষ্ট ব্যায়ামের মাধ্যমে পেশির শক্তি ও সহনশীলতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।
- জয়েন্টের নড়াচড়া উন্নত করে: আঘাত বা দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে জয়েন্ট শক্ত হয়ে গেলে নিয়ন্ত্রিত অনুশীলনের মাধ্যমে নড়াচড়া বাড়ানো হয়
- শারীরিক ভঙ্গি সংশোধন করে: বসা, দাঁড়ানো, ঘুমানো বা ভার তোলার ভুল পদ্ধতি চিহ্নিত করে নিরাপদ পদ্ধতি শেখানো হয়।
- শরীরের ভারসাম্য উন্নত করে: ভারসাম্যের অনুশীলন হাঁটার নিরাপত্তা বাড়াতে এবং পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও শক্তিবর্ধক ব্যায়াম পতনজনিত আঘাত প্রতিরোধে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
- রোগীর আত্মবিশ্বাস বাড়ায়: ব্যথার ভয় অনেক সময় মানুষকে প্রয়োজনীয় নড়াচড়া থেকেও বিরত রাখে। তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে অনুশীলন করলে নিজের শরীরের ওপর আস্থা ফিরে আসতে পারে।
- তবে প্রতিটি ব্যথার চিকিৎসা এক নয়। হঠাৎ তীব্র ব্যথা, গুরুতর আঘাত, বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া অথবা মল-মূত্র নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসকের জরুরি মূল্যায়ন প্রয়োজন।
- সঠিক ব্যায়াম শরীরকে শক্তিশালী করে, কিন্তু ভুল ব্যায়াম সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন ছাড়া অনলাইনের যেকোনো ব্যায়াম অনুসরণ করা উচিত নয়।