শরীরের কোনো অংশে ব্যথা হলে অনেকেই বিশ্রাম নেন অথবা ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করেন। এতে কখনো সাময়িক স্বস্তি পাওয়া গেলেও সমস্যার প্রকৃত কারণ সবসময় দূর হয় না। পেশির দুর্বলতা, জয়েন্টের শক্তভাব, ভুল ভঙ্গি, ভারসাম্যের অভাব বা ভুলভাবে চলাফেরা করার কারণে একই সমস্যা বারবার ফিরে আসতে পারে।
ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন হয় কারণ এটি শুধু উপসর্গ নয়, রোগীর কার্যক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পুনর্বাসনের উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তির কার্যক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং অসুস্থতা বা শারীরিক সমস্যার কারণে সৃষ্ট অক্ষমতা কমানো।
নিচের সমস্যাগুলোতে ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে—
- দীর্ঘদিনের কোমর, ঘাড়, কাঁধ বা হাঁটুর ব্যথা
- খেলাধুলা বা দুর্ঘটনায় আঘাত
- হাড় ভাঙার পর পেশি ও জয়েন্টের দুর্বলতা
- অস্ত্রোপচারের পর স্বাভাবিক চলাফেরায় সমস্যা
- স্ট্রোকের পর হাত-পা দুর্বল হয়ে যাওয়া
- ভারসাম্যের অভাব বা পড়ে যাওয়ার ভয়
- আর্থ্রাইটিস ও বয়সজনিত জয়েন্টের সমস্যা
- দীর্ঘসময় বসে কাজ করার কারণে ভঙ্গিগত সমস্যা
- দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা
ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীর সামর্থ্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে ব্যায়াম নির্ধারণ করেন। একই ধরনের ব্যথা থাকলেও দুই রোগীর কারণ, বয়স, পেশির শক্তি এবং দৈনন্দিন কাজ আলাদা হতে পারে। তাই সবার জন্য একই ব্যায়াম উপযুক্ত নয়।
সময়ে ফিজিওথেরাপি শুরু করলে শরীরের নড়াচড়া বজায় রাখা, পেশির দুর্বলতা কমানো এবং দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। পুনর্বাসনের লক্ষ্য হচ্ছে রোগীকে যতটা সম্ভব স্বাধীনভাবে শিক্ষা, কাজ, পরিবার ও সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণে সহায়তা করা।
ব্যথা সহ্য করে কাজ চালিয়ে যাওয়া সমাধান নয়। কারণ বুঝে সঠিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন শুরু করাই সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।