| শিশুর সুন্নতে খতনা বা মুসলমানি করানোর পর সঠিক পরিচর্যা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খতনার পর সামান্য ফোলা, লালচে ভাব বা অল্প অস্বস্তি হতে পারে। তবে ক্ষতস্থান পরিষ্কার রাখা, চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা এবং বিপদের লক্ষণ চিনতে পারা জরুরি। মেহেরপুর সদর, গাংনী ও মুজিবনগরের অভিভাবকদের জন্য এই গাইডে খতনার পর শিশুর যত্ন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হলো। ১. খতনার পর ক্ষতস্থান কীভাবে পরিষ্কার করবেন? চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী পরিষ্কার পানি দিয়ে আলতোভাবে জায়গাটি পরিষ্কার করুন। পরিষ্কারের পর ঘষাঘষি না করে আলতোভাবে শুকিয়ে নিন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো অ্যান্টিসেপটিক, পাউডার, তেল, ক্রিম বা ঘরোয়া উপাদান লাগাবেন না। ক্ষতস্থানে লেগে থাকা ব্যান্ডেজ নিজে থেকে টেনে খুলবেন না। কখন ও কীভাবে খুলতে হবে, তা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন। চিকিৎসক কোনো মলম বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহারের পরামর্শ দিলে নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করুন। ২. ব্যথা ও ফোলা হলে কী করবেন? খতনার পর কিছুটা ফোলা, লালচে ভাব বা অস্বস্তি হতে পারে। সাধারণত সময়ের সঙ্গে এগুলো কমে আসে। শিশুকে আরামদায়ক অবস্থায় রাখুন। ডায়াপার বা পোশাক বেশি আঁটসাঁট করবেন না। ব্যথার ওষুধ কেবল চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী দিন। শিশুর বয়স ও ওজন অনুযায়ী ওষুধের মাত্রা ভিন্ন হতে পারে। ফোলা বা ব্যথা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ৩. খতনার পর গোসল করানো যাবে কি? গোসলের নিয়ম খতনার পদ্ধতি, ব্যবহৃত ড্রেসিং এবং চিকিৎসকের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে। কখন থেকে গোসল করানো যাবে এবং ক্ষতস্থান কীভাবে পরিষ্কার রাখতে হবে, তা চিকিৎসকের কাছ থেকে নিশ্চিত করুন। ক্ষতস্থান ঘষবেন না এবং দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন না, যতক্ষণ না চিকিৎসক অনুমতি দেন। ৪. খতনার পর কী খাওয়াবেন? শিশু স্বাভাবিকভাবে খেতে পারলে বয়স অনুযায়ী তার নিয়মিত খাবার ও পানীয় দিতে পারেন। নবজাতকের ক্ষেত্রে বুকের দুধ চালিয়ে যান, যদি চিকিৎসক অন্য নির্দেশ না দেন। অ্যানেসথেশিয়া দেওয়া হয়ে থাকলে খাওয়ানোর বিষয়ে হাসপাতালের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। ৫. খতনার ক্ষত সারতে কত দিন লাগে? অনেক শিশুর ক্ষেত্রে প্রায় ৭–১০ দিনের মধ্যে ক্ষত অনেকটা সেরে আসে। তবে বয়স, খতনার পদ্ধতি ও শিশুর শারীরিক অবস্থার কারণে সময় কমবেশি হতে পারে। পুরোপুরি সেরে না ওঠা পর্যন্ত চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। ৬. কোন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে? নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন বা জরুরি বিভাগে যান: রক্তপাত বন্ধ না হওয়া বা ডায়াপার/ব্যান্ডেজে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রক্ত দেখা। খতনার পর ৬–৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রস্রাব না হওয়া। জ্বর, পুঁজ বা দুর্গন্ধযুক্ত তরল বের হওয়া। ফোলা, লালচে ভাব বা ব্যথা ক্রমাগত বেড়ে যাওয়া। শিশুর অস্বাভাবিক নিস্তেজতা বা ওষুধেও না কমা তীব্র ব্যথা। বিশেষ করে প্রস্রাব করতে না পারা বা চলমান রক্তপাত হলে অপেক্ষা করবেন না। <Cite refs={[“turn934606search0″,”turn934606search1″,”turn934606search2”]}/> ৭. খতনার পর অভিভাবকদের সাধারণ ভুল চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা মলম ব্যবহার করা। ক্ষতস্থানে বারবার হাত দেওয়া বা ঘষাঘষি করা। জোর করে ব্যান্ডেজ খুলে ফেলা। বিপদের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও অপেক্ষা করা। ফলোআপের নির্দেশনা উপেক্ষা করা। মেহেরপুরে খতনার পর চিকিৎসা সহায়তা মেহেরপুর সদর, গাংনী অথবা মুজিবনগরে খতনার পর কোনো সমস্যা দেখা দিলে যে চিকিৎসক বা প্রতিষ্ঠানে খতনা করানো হয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। জরুরি লক্ষণ দেখা দিলে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। Relife (রিলাইফ) ওয়েবসাইট: www.relifehc.com ঠিকানা: হাসপাতাল গেট, মেহেরপুর। সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন প্রশ্ন: খতনার পর সামান্য ফোলা কি স্বাভাবিক? উত্তর: প্রথম দিকে কিছুটা ফোলা বা লালচে ভাব হতে পারে। তবে ফোলা বাড়লে, জ্বর হলে বা পুঁজ বের হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রশ্ন: খতনার পর হলুদ আবরণ দেখা গেলে কী করব? উত্তর: ক্ষতস্থানে কিছু হলদেটে আবরণ নিরাময়ের স্বাভাবিক অংশও হতে পারে। এটি ঘষে তুলবেন না। পুঁজ, দুর্গন্ধ, জ্বর বা বাড়তে থাকা লালচে ভাব থাকলে চিকিৎসককে দেখান। প্রশ্ন: খতনার পর শিশুর প্রস্রাব না হলে কী করব? উত্তর: খতনার পর ৬–৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রস্রাব না হলে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিন। স্বাস্থ্য সতর্কতা: এই নিবন্ধটি সাধারণ সচেতনতার জন্য; এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। খতনা করানো চিকিৎসকের দেওয়া নির্দিষ্ট নির্দেশনাই অগ্রাধিকার পাবে। |
পরামর্শের বিকল্প নয়।
