রোগী দেখার সময়: সকাল ৮টা - রাত ৮টা পর্যন্ত

ডিভাইস ও কসমেটিক খৎনা (Device & Cosmetic Circumcision): আধুনিক পদ্ধতিতে সুরক্ষাই প্রথম

খৎনা বা মুসলমানি আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কৃতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে চিকিৎসা বিজ্ঞানেও এসেছে বিশাল পরিবর্তন। ঐতিহ্যগত বা সনাতন পদ্ধতির খৎনার ধকল ও রক্তপাতের ভয় দূর করতে এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ডিভাইস খৎনা এবং কসমেটিক খৎনা

আজকের ব্লগে আমরা জানবো এই আধুনিক খৎনা পদ্ধতিগুলো কী, এর সুবিধা কী এবং কাদের জন্য এটি করা উচিত বা অনুচিত।

ডিভাইস ও কসমেটিক খৎনা আসলে কী?

সহজ কথায়, কোনো ধরনের প্রচলিত ছুরি-কাঁচি দিয়ে কাটাছেঁড়া বা সেলাই ছাড়া সম্পূর্ণ আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে যে খৎনা করা হয়, তাকে ডিভাইস খৎনা বলে (যেমন: Alisklamp বা SmartKlamp পদ্ধতি)।

অন্যদিকে, কসমেটিক খৎনা হলো এমন একটি নিখুঁত পদ্ধতি যেখানে লেজার বা বিশেষ আঠা ব্যবহার করে চামড়া জোড়া দেওয়া হয়। এতে কোনো দাগ বা সেলাইয়ের চিহ্ন থাকে না এবং দেখতে অত্যন্ত সুন্দর ও স্বাভাবিক মনে হয়।

এটি কেন প্রয়োজন বা কেন করা উচিত?

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, হাজার বছর ধরে চলে আসা সাধারণ পদ্ধতি রেখে কেন আমরা এই আধুনিক পদ্ধতি বেছে নেব? এর প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • রক্তপাতহীন ও সেলাইবিহীন: এই পদ্ধতিতে রক্তপাত হয় না বললেই চলে এবং কোনো সেলাইয়ের প্রয়োজন পড়ে না। ফলে সেলাই কাটার কোনো ভয় থাকে না।
  • ব্যথামুক্ত ও দ্রুত সুস্থতা: সনাতন পদ্ধতির তুলনায় এতে ব্যথা অনেক কম হয়। শিশু বা প্রাপ্তবয়স্করা খুব দ্রুত (সাধারণত ২-৩ দিনের মধ্যে) স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করতে পারেন।
  • কোনো ড্রেসিং বা ব্যান্ডেজ লাগে না: ডিভাইস খৎনায় কোনো ব্যান্ডেজ করার প্রয়োজন হয় না। ফলে ব্যান্ডেজ খোলার সময় যে তীব্র ব্যথা হয়, তার কোনো সুযোগ নেই।
  • গোসল ও হাঁটাচলা স্বাভাবিক: খৎনা করার পরের দিন থেকেই স্বাভাবিকভাবে গোসল করা যায় এবং লুজ পোশাক পরে হাঁটাচলা করা যায়।
  • মানসিক স্বস্তি: বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটি একটি আশীর্বাদ। খৎনা নিয়ে শিশুদের মনের ভেতরের ভয় বা ট্রমা সম্পূর্ণ দূর হয়ে যায়।

খৎনা করার সাধারণ ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা

ডিভাইস বা কসমেটিক যে পদ্ধতিতেই করা হোক না কেন, খৎনা করার বেশ কিছু চমৎকার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা রয়েছে:

গবেষণায় দেখা গেছে: খৎনা করানো পুরুষদের ক্ষেত্রে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI) বা প্রস্রাবের ইনফেকশনের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক কম থাকে।

  • পরিচ্ছন্নতা: লিঙ্গের অগ্রভাগের চামড়া বা ফোরস্কিন (Foreskin) সহজে পরিষ্কার করা যায়, ফলে সেখানে কোনো জীবাণু বা ময়লা (Smegma) জমতে পারে না।
  • যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি হ্রাস: এটি এইচআইভি (HIV) সহ বিভিন্ন যৌনবাহিত রোগের (STD) ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
  • ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: খৎনা করা পুরুষদের পেনাইল ক্যান্সার (Penile Cancer) এবং তাদের নারী সঙ্গীদের জরায়ু মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়।

কাদের জন্য এটি করা উচিত নয়? (সতর্কতা)

আধুনিক পদ্ধতি হলেও সবার জন্য ঢালাওভাবে এটি করা ঠিক নয়। নিচের পরিস্থিতিগুলোতে ডিভাইস বা কসমেটিক খৎনা করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে বা এড়িয়ে চলতে হবে:

  • জন্মগত ত্রুটি (Hypospadias): যদি কোনো শিশুর প্রস্রাবের রাস্তা জন্মগতভাবে সঠিক স্থানে না থেকে নিচের দিকে থাকে, তবে কোনো অবস্থাতেই খৎনা করা যাবে না। পরবর্তীতে প্লাস্টিক সার্জারির সময় এই চামড়া প্রয়োজন হয়।
  • রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা (Bleeding Disorders): যাদের রক্ত জমাট বাঁধতে সমস্যা আছে (যেমন: হিমোফিলিয়া), তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
  • অপরিণত বা অসুস্থ শিশু: শিশু যদি খুব অসুস্থ থাকে বা সময়ের আগে জন্ম নেওয়া (Premature) দুর্বল শিশু হয়, তবে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।
  • স্থানীয় ইনফেকশন: লিঙ্গের অগ্রভাগে যদি তীব্র ইনফেকশন বা ক্ষত থাকে, তবে আগে ওষুধের মাধ্যমে ইনফেকশন ভালো করতে হবে, তারপর খৎনা করতে হবে।

শেষ কথা: আপনার সিদ্ধান্ত হোক নিরাপদ

ডিভাইস এবং কসমেটিক খৎনা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক দারুণ উপহার। এটি একদিকে যেমন রোগীকে দেয় ব্যথামুক্ত অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে নিরাময় প্রক্রিয়াকে করে তোলে দ্রুত ও ঝঞ্ঝাটহীন। তবে পদ্ধতিটি যত আধুনিকই হোক না কেন, এটি সবসময় একজন অভিজ্ঞ সার্জন বা ইউরোলজিস্টের মাধ্যমে করানো উচিত।

আপনার সন্তানের বা নিজের সুরক্ষায় সঠিক পদ্ধতি এবং দক্ষ চিকিৎসক বেছে নিন, সুস্থ ও নিরাপদ থাকুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top